ব্লগিং কি? কিভাবে ফ্রি ব্লগ তৈরি করে এবং ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার উপায়

ব্লগিং কি? কিভাবে ফ্রি ব্লগ তৈরি করে এবং ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার উপায় এগুলো নিয়ে আজকে বিস্তারিত জানবোব্লগ শব্দটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। বর্তমান সময়ে ব্লগ, ব্লগ পোস্ট, ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করা অনেক জনপ্রিয়।

আজকাল অনেকে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করছে এবং অনেকে করতে চায়।

ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার আগে আমাদের ব্লগ সম্পর্ক ভালভাবে জানতে হবে। তাহলে আমরা সহজে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করতে পারব। 

আমরা এই আর্টিকেলে

ব্লগ কি

 কাকে বলে

 কিভাবে তৈরী করে

 প্রয়োজনীতা কি 

কিভাবে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। এসব নিয়ে বিস্তারিত জানাব। 

আমাদের এই আর্টিকেল পড়লে আপনি ব্লগ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আশা করি আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন। 

ব্লগ কি? কিভাবে তৈরি করে? ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার উপায়

List of Contents

ব্লগ কি?

ব্লগকে ডিজিটাল ডায়েরী বা জার্নাল বলা হয়। আমরা অনেকে ডায়েরী লিখে থাকে। নিজেদের ব্যক্তিগত কথা, মতামত, প্রাত্যহিক জীবন ইত্যাদি বিষয়ে লিখি।  

ব্লগও ঠিক সেরকম। ডায়েরী ছিল একান্ত ব্যক্তিগত। আর ব্লগ ব্যক্তিগত হলেও ব্লগের লেখা সবার জন্য উম্মুক্ত। সবাই পড়তে পারে। 

একধরনের ওয়েবসাইট বা ওয়েবপেইজকে ব্লগ বলে। যেখানে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লেখা হয় এবং সেসব বিষয়ে অন্যরা চাইলে মতামতও দিতে পারে। 

ব্লগের লেখাগুলো কি নিয়ে হয়?

ব্লগ বিভিন্ন বিষয়ে লেখা যেতে পারে। যার যে বিষয় পছন্দ বা দক্ষ সে সেবিষয়ে লিখতে পারে। যেমন-

  • নিজের প্রতিদিনের জীবন
  • পছন্দের বই
  • যেকোন বই, সিনেমা বা অন্য কিছুর রিভিউ
  • ভ্রমন
  • রান্নার রেসিপি বা টিপস
  • ত্বকের যত্ন
  • স্বাস্থ্য
  • ইডুকেশন
  • ইকামর্স ইত্যাদি

বর্তমান সময়ে ব্লগিং করার জন্য জনপ্রিয় ৯টি টপিক:

  • টিপস এন্ড ট্রিক্স
  • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং
  • রেসিপি ব্লগিং
  • বিভিন্ন বিষয়ে রিভিউ 
  • ভ্রমণ নিয়ে ব্লগ
  • স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ
  • এক্সারসাইজ বিষয়ক ব্লগ
  • ভাষা শিক্ষা ব্লগ
  • টেকনোলোজি
  • ডিজিটাল মার্কেটিং 

একসময় ব্লগ শুধু ব্যক্তিগত প্রয়জনে ব্যবহার করা হলেও এখন অনেকে ব্যাবসার কাজেও ব্যবহার করছে এবং টাকা ইনকাম করছে। 

আমরা এই আর্টিকেলে ব্লগ থেকে আয়  করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত বলল। সেজন্য আপনাকে আমাদের সাথে থাকতে হবে। 

ব্লগ তৈরীর ইতিহাস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের Swarthmore College এর ছাত্র Justin Hall কে ব্লগের জনক বা আবিষ্কারক বলা হয়।

তিনি সর্বপ্রথম Links.net নামে একটি ব্লগ তৈরী করেন। যা একটি সাধারন personal homepage ছিল। সে সময় এটি ব্লগ হিসাবে ধরা হয়নি। 

তারপরও তাকে ব্লগ তৈরীর জন্য সর্বপ্রথম সম্মাননা দেওয়া হয়। কারন ব্লগের আইডিয়া প্রথম তিনি দিয়েছিলেন। 

এরপর পরবর্তিতে ১৯৯৭ সালে Robot Wisdom এর ব্লগার Jorn Barger প্রথম weblog শব্দ আবিষ্কার করেন। তিনি একজন ইন্টারনেট ব্রাউজার ছিলেন। weblog দিয়ে “logging the web” বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে প্রোগ্রামার Peter Merholz “weblog” কে সংক্ষিপ্ত করে “blog” নাম দেয়। 

ব্লগ মূলত তৈরী করা হয়েছিল বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত লেখার জন্য। weblog ছিল ব্যক্তিগত ডায়েরি বা জার্নালের মতো। 

যেখানে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য বা মতামত দেওয়া হত। ব্লগের সিস্টেম এমনভাবে তৈরী করা হয়েছিল যাতে নতুন পোস্ট সবার প্রথমে দেখা যায়।  

ব্লগের সাথে আরও অনেক শব্দ জড়িত যেমন ব্লগিং, ব্লগার, ব্লগ পোস্ট। ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করা আগে এসব বিষয়ে আগে জানতে হবে। 

ব্লগিং কি?

ব্লগ করাকে ব্লগিং বলে। তবে ব্লগিং মূলত চোখের আড়ালে হয়। 

ওয়েবপেজ বা ব্লগপেজে CMS বা Content Management System নামে একটি tool আছে। যার মাধ্যমে আমরা কন্টেন্ট লিখতে পারি এবং পোস্ট ও শেয়ার করার মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরতে পারি।

CMS এর পুরা প্রক্রিয়াকে ব্লগিং বলে। যা একটি system এ চলে। CMS এরজন্য আমরা আমাদের কন্টেন্ট বা মতামত সবার সামনে তুলে ধরতে পারি। 

ব্লগার কি বা কাকে বলে?

যারা ব্লগ করে তাদের ব্লগার বলে। 

যে ব্যক্তি ব্লগিং পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্লগ লেখে এবং সবার সাথে শেয়ার করে তাকে মূলত ব্লগার বলে। 

একজন ব্লগার যেকোন একটি বিষয়ে লিখতে পারে। আবার বিভিন্ন বিষয়েও লিখতে পারে।

তবে তাকে অবশ্যই লেখার দক্ষতা রাখতে হবে। কারণ লেখা ভাল হলে একজন রিডার ব্লগ পড়তে চাইবে এবং পছন্দ করবে। 

ব্লগিং করে অনেকে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিশ্বব্যাপী অনেকে সেরা ব্লগার হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে। 

তাই আজকাল অনেকে ব্লগিংকে পেশা হিসাবে নিচ্ছে। 

ব্লগ পোস্ট কি?

একজন ব্লগারের মতামতকে ব্লগ পোস্ট বলে। অন্যভাবে বলি, ব্লগ সাইটে যে কন্টেন্টগুলো পোস্ট করা হয় তাকে ব্লগ পোস্ট বলে। 

ব্লগ এবং ওয়েবসাইট কি একই?

না, ব্লগ এবং ওয়েবসাইট একই না। এই ২টা দেখতে একই এবং তেরীর পদ্ধতি এক হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। 

ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের কাজ আলাদা। চলুল জেনে নেওয়া যাক ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের পার্থক্য।

ওয়েবসাইট একবার তৈরী করলে এটা নিয়মিত আপডেট করতে হয় না। সব তথ্য স্টোক হয়ে থাকে।

যদি কখনো প্রয়োজন হয় তখন কিছু তথ্য সংযোজন বা বিয়োজন বা পরিবর্তন করা হয়। ওয়েবসাইট এর পেজগুলোকে স্টেটিক পেজ বলে। 

একটি ওয়েবসাইট সাধারনত about, service, Home, Contact us এই পেজগুলো থাকে। এই পেজের তথ্য একবার দেওয়া হলে আর আপডেট করার প্রয়োজন হয় না।

ওয়েবসাইট সাধারনত ব্যবসায়ীক কাজে, অফিসিয়াল কাজে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং সরকারী ও বেসরকারিভাবে ব্যবহার করা হয়।  

ব্লগ থেকে ইনকাম করার উপায়

অপরদিকে ব্লগ সাইটকে নিয়মিত আপডেট করতে হয়। সবচেয়ে ভাল হয় প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একটি করে হলেও পোস্ট দেওয়া। 

এর কারন হচ্ছে ব্লগ সাইট নিজের একটি কমিউনিটি তৈরী করে এবং এই কমিউনিটির সদস্যরা নিয়মিত নতুন তথ্য জানতে চায়। 

একজন ব্লগার যদি প্রতিদিন পোস্ট না দেয় তাহলে সে কমিউনিটি তৈরী করতে পারবে না। আর কমিউনিটি তৈরী করতে না পারলে তার লিখে লাভ নাই। 

কারন একজন ব্লাগার ব্লগ লেখে অন্যকে জানানোর জন্য। সে অন্যকে তার মতামত জানাতে ভালবাসে।  

এছাড়া ব্লগ পোস্টে comment box থাকে। যেখানে ব্লগ পড়ার পর রিডার তাদের মতামত দিতে পারে।

ফলে একটি two way communication তৈরী হয়। এতে ব্লগার এবং রিডারের মধ্যে ভাল সম্পর্ক তেরী হয়। 

ব্লগ সাধারনত নিজের মতামত বা ব্লগার যে বিষয়ে এক্সপার্ট সে বিষয়ে লিখে।

ব্লগ পোস্টে তারিখ, লেখকের নাম এবং তার পরিচয় ইত্যাদি থাকে। ফলে ব্লগটি কে কবে লিখছে জানা যায়।  

এক একটি ব্লগ পোস্ট ওয়েবপেজের সমান। ব্লগ নিয়মিত আপডেট হয় বলে একে ডাইনামিক সাইট বলে। 

তবে কিছু কিছু ওয়েবসাইটে ব্লগ থাকে। এটা অনেকে রাখে তাদের ওয়েবসাইটকে র‍্যাক করার জন্য। যেসব ওয়েবসাইটে ব্লগ থাকে সেসব সাইটকে স্টেটিক বলা হয় না। 

এই ওয়েবসাইটগুলো ব্লগের জন্য অনলাইন জগতে ঘুরাফেলা করতে পারে। 

আশা করি এখন আর ব্লগ এবং ওয়েবসাইট নিয়ে সমস্যা হবে না। আমরা এখন জানি ব্লগ আর ওয়েবসাইট একদম আলাদা এবং এদের কাজও আলাদা। 

ব্লগের প্রয়োজনীয়তা

একসময় ব্লগ শুধু ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হতো। তবে এখন এটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। 

এইজন্য কাজের ভিত্তিতে ব্লগকে ২ভাগে ভাগ করা হয়।

১। ব্যক্তিগত ব্লগ

২। ব্যবসায়ীক বা অফিসিয়াল ব্লগ

ব্লগের জনপ্রিয়তার জন্য সবাই ব্লগ লিখতে চায়। ব্লগ লেখার ফলে নিজের পরিচিতি বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হওয়ারও সম্ভবনা থাকে। সেই সাথে টাকাও ইনকাম করা যায়। 

বর্তমানে ব্লগে বুহু ব্যবহারের কারনে এর প্রয়োজনীয়তাও অনেকে। 

আমরা এখন ব্লগে কেন ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে বলল। 

একজন মানুষ বিভিন্ন কারনে ব্লগ ব্যবহার করে। কেউ ব্যক্তিগত কারণে কেউ ব্যবসায়ীক কারনে। আবার অনেকে শখ করেও ব্লগ ব্যবহার করে। 

ব্লগিং কিভাবে শুরু করবেন?

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্লগের ব্যবহার

কিছু মানুষ আছে যারা লিখতে পছন্দ করে এবং অন্যকে জানাতে ভালবাসে। তাদের জন্য ব্লগ উত্তম জায়গা। 

ব্লগ লিখে যেকেউ সহজ নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারে তার লেখার মাধ্যমে। শুধু তাই নয় তার লেখা নিয়ে অন্যের সাথে আলোচনাও করতে পারে। ফলে একটি কমিউনিটি তৈরী হয়। 

অনেকের কাছে এই কমিউনিটি ভাল লাগে। যেকোন বিষয়ে অন্যের সাথে আলোচনা করতে পারে। 

আপনার লেখা ভাল হলে আপনিও বিখ্যাত হয়ে যেতে পারেন। আর বিখ্যাত কে না হতে চায়। তাই নিজের জন্য ব্লগ খুবই প্রয়োজনীয়।  

মতামত প্রকাশ করার জন্য ব্লগের ব্যবহার:

ব্লগ একা ব্যবহার করা যায় আবার কয়েকজন মিলেও ব্যবহার করা যায়। 

ব্যক্তিগত ব্লগে একটি মানুষ বা একজন ব্লগার লিখে থাকেন। অনেক সময় কয়েকজন মিলে ব্লগ তৈরী করে। যা অনেক লেখককে ব্লগ লেখার সুযোগ করে দেয়। এমন ব্লগকে সমাজিক বা কমিউনিটি ব্লগ বলে। 

কমিউনিটি ব্লগের ফলে অনেক লেখক একটি প্লাটফর্মে মিলিত হতে পারে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। পাঠকও অনেক মানুষের লেখা এক সাথে পড়তে পারে। 

এরফলে অনলাইনে একটি বড় কমিউনিটি তৈরী হয়। যেখানে সবধরনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। 

ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে ব্লগের ব্যবহার

ব্যক্তিগত মত প্রকাশের পাশাপাশি এখন অনেকে নিজের ব্যবসার জন্যও ব্লগ ব্যবহার করে। যার ফলে অনেকে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করছে।

এখন অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য প্রচারের জন্য ব্লগ ব্যবহার করে। এতে বেশি কাস্টমারের কাছে পৌছানো যায় এবং তাদের মতামত নেওয়া যায়। 

আবার একা ব্লগ ব্যবহার করেও অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছে। নিজ ব্যবসার পণ্য প্রচার করে টাকা ইনকাম করছে।  

এছাড়া পণ্য প্রচার না করেও শুধু লিখে টাকা ইনকাম করা সম্ভব ব্লগ থেকে। 

ব্লগ থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায় আমরা এই আর্টিকেলে আলোচনা করব। 

 আপনি যদি ব্লগ থেকে টাকা ইনকান করতে চান আমাদের সাথেই থাকুন। 

ওয়েবসাইট Google search engine rank এ আনার জন্য

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য তার ওয়েবসাইটকে Google search engine এর প্রথম পেজে আনা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এরজন্য অনেক প্রতিষ্ঠান প্রচুর টাকা খরচ করে। 

কিন্তু ব্লগ ব্যবহার করলে কোন খরচ না করে ওয়েবসাইটকে Ranking এ আনা সম্ভব। 

একটি ওয়েবসাইট সাধারনত কম ভিজিটর আসে। আসলেও অনেক সময় লাগে।

কিন্তু ব্লগে ভিজিটর সহজে আসে এবং অনেক ভিজিটর পাওয়া যায়। 

একটি ওয়েবসাইট যখন ব্লগ এড করবে এবং তাদের পণ্য নিয়ে নিয়মিত লিখবে তখন ওয়েবসাইটটি গতিশীল হবে। 

ফলে আপনাআপনি ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়বে।

ওয়েবসাইটের টপিক নিয়ে সার্চ করে গুগলের প্রথম পেজে দেখাবে। এরফলে ওয়েবসাইটটি SEO হয়ে যায়। 

পণ্য নিয়ে জানার জন্য একমাত্র মাধ্যম হিসাবে পরিচিতি পায় ওয়েবসাইটটি। 

আর ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসা মানে বিক্রি বৃদ্ধি পাওয়া। যা একটি ব্যবসার ১ম লক্ষ্য থাকে। 

নির্দিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্ট হওয়া এবং তথ্য প্রকাশ করা

আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এক্সপার্ট হন বা অল্পপরিসরে জ্ঞান আছে। তাহলে নিয়মিত ব্লগ লিখে আপনি বিখ্যাত হতে পারেন আবার ভাল পরিমানে টাকাও ইনকাম করতে পারবেন।

২০০৬ সালে Boston এর আধিবাসী Matt Kepnes চাকরি ছেড়ে দেয় এবং বিশ্ব ভ্রমন করা শুরু করে দেয়। 

তিনি তার ভ্রমনের অভিজ্ঞতা ব্লগে লেখা শুরু করে। নিয়মিত লেখার ফলে এক বছরের মধ্যে তার ব্লগ Google rank করে এবং ৬০,০০০ ডলার আয় করে। 

এর থেকে আমরা বুঝতে পারি, যেকেউ ব্লগ লিখে একটি বিষয়ে এক্সপার্ট হতে পারে। আর তার নাম পুরা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং টাকাও ইনকাম করা যাবে। 

পরিচিত আর টাকা এই ২টা আমরা সবাই চাই। আর এই ২টি আমরা ব্লগ থেকে পাব। 

Read more

ব্লগসাইট তৈরী করতে বা ব্লগ লিখতে কি কি লাগে?

ব্লগসাইট তৈরী করতে একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ লাগবে যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ করা থাকবে। 

আপনার যদি কম্পিউটার বা ল্যপপটপ না তাকে তাহলে অন্য কাউকে দিয়ে আপনার ব্লগসাইট ওপেন করে নিতে পারেন। মোবাইলেও করা যাবে। তবে এতে অনেক সময় লাগবে। 

এরপর মোবাইল দিয়ে ব্লগ লিখে ব্লগসাইটে পাবলিশ করতে পারবেন। 

ব্লগ তেরী করতে আরও কিছু জিনিস লাগে যা ব্লগ তৈরী করার আগে ঠিক করে রাখতে হয়। ব্লগ তৈরী করতে যা লাগবে:

  • প্রথমে টপিক ঠিক করতে হবে। আপনি কি নিয়ে ব্লগ লিখবেন সেটা আগে ঠিক করতে হবে।
  • টপিকের সাথে মিল রেখ ব্লগের নাম ঠিক করতে হবে।
  • সঠিক ব্লগিং প্লাটফর্ম ঠিক করতে হবে। ব্লগিং প্লাটফর্মটি যেন ভাল এবং জনপ্রিয় হয় সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। 
  • ডোমেইন নিতে হবে 
  • পেইড ব্লগসাইটের জন্য হোস্টিং কিনতে হবে। ফ্রিসাইটের জন্য দরকার নাই। 
  • সুন্দর এবং হালকা থিম নিতে হবে। ব্লগসাইটকে সাজানোর জন্য। 

ব্লগ সাইট তৈরী করার পদ্ধতি

ব্লগ সাইট ২ভাবে তৈরী করা যায়।

১। ফ্রি ব্লগসাইট

২। পেইড ব্লগ সাইট

পেইড ব্লগসাইট তৈরী করতে ১০০০-৩০০০ টাকা লাগে। একবার তৈরী করতে পারলে তেমন কোন ঝামেলা হয় না। 

ফ্রিসাইট তৈরী করতে টাকা লাগে না। গুগলে অনেক ফ্রি ব্লগ সাইট আছে। ওসব সাইট থেকে সহজে নিজের জন্য সাইট তৈরী করে নেওয়া যায়। 

ফ্রি সাইটে ব্লগ তৈরী করতে বেশি সময় লাগে না। তবে অনেক সময় ঝামেলা হয়। 

কিভাবে ব্লগ তৈরি করতে হয়?

ফ্রি ব্লগ সাইট তৈরী করার পদ্ধতি

ফ্রি ব্লগসাইট তৈরী করতে নিজের জিমেইল বা অন্যকোন মেইলের অ্যাকাউন্ট লাগবে। 

blogger.com জনপ্রিয় একটি ব্লগসাইট।গুগলে blogger.com লিখলে সাইটটি পাওয়া যাবে। এই সাইটে গিয়ে create a blog অপশনে ক্লিক করতে হবে।

এরপর নিজের মেইল ও পাসওয়ার্ড long in করতে হবে।

তারপর ব্লগে নাম এবং অন্যান্য তথ্য দিলেই আপনার নিজের ব্লগ সাইট তৈরী হয়ে যাবে। 

ব্লগসাইট তৈরী হওয়ার পর নিজের পছন্দ মতো টেম্পলেট দিয়ে সাজাতে পারবেন। Blogger.com সাইটে অনেক রকম টেম্পলেট তেরী করা থাকে। যেকোন থেকে একটি নিতে পারবেন। 

ব্যাস হয়ে গেল আপনার ব্লগ সাইট। এখন নিজের মতো করে যেকোন টপিক নিয়ে লিখতে পারবেন।  

ব্লগ থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়

ব্লগ থেকে বিভিন্ন উপায়ে টাকা ইনকাম করা যায়। এরমধ্যে গুগল এডসেন্স সবচেয়ে জনপ্রিয়। একজন নতুন ব্লগার চায় তার ব্লগ সাইটে গুগল এডসেন্স যোগ হোক। 

তবে যেকোন উপায়ে ইনকাম করার ১ম শর্ত ভিজিটর বা ট্রাফিক নিয়ে আসা। ব্লগসাইটে ভিজিটর না থাকলে ইনকাম করা যাবে না। 

এছাড়া আরও অনেক উপায় আছে। আমরা এখন ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে কথা বলব। 

১। গুগল এডসেন্স যোগ করে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম

 গুগল এডসেন্স গুগলের একটি সার্ভিস। যা দ্বারা ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করা যায়। 

এটি গুগলের সার্ভিস তাই টাকা ইনকাম করার জন্য এটি একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং নিরাপদ মাধ্যম।

তবে সব ব্লগে গুগল এডসেন্স যোগ হয় না। যেসব ব্লগে ট্রাফিক বেশি এবং নিয়মিত আপডেট করা হয়। সেসব ব্লগে গুগল এডসেন্স যোগ হয়। 

একজন ব্লগারের ১ম ইচ্ছা থাকে গুগল এডসেন্স এড করানো। 

আর এরজন্য নিয়মিত ব্লগ পোস্ট করতে হবে। আর ট্রাফিক আনতে হবে। 

ব্লগে গুগল এডসেন্স যোগ হলে বিভন্ন ধরনরে বিজ্ঞাপন ব্লগ দেখানো হবে। এসব বিজ্ঞাপন থেকে সাধারনত টাকা ইনকাম হয়। 

এসব বিজ্ঞাপন যত মানুষ দেখবে ইনকাম তত বেশি হবে। আর কেউ যদি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে তাহলে ইনকাম আরও বেশি হয়। 

বিজ্ঞাপনগুলো বিভিন্ন রকম হয়। image, videos, pop up ইত্যাদি। 

এসব বিজ্ঞাপন থেকে যা ইনকাম হয় তা ব্লগ মালিকের এডসেন্স অ্যাকাউন্টে যোগ হয়।

এডসেন্স অ্যাকাউন্টে ১০০ ডলার জমা হলে পারসোনাল ব্যাংক অ্যকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

একটি চলমান ব্লগ থেকে মাসে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা বা আরও বেশি ইনকাম করা সম্ভব। এটা নির্ভর করবে ব্লগের ট্রাফিক সংখ্যার উপর। 

২। এফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম

ব্লগ মানে লেখালেখি করা। নিজের মতো করে নিজের পছন্দের যেকোন বিষয়ে লিখতে হয়।

কিন্তু সবার তো আর লেখালেখি করতে ভাল লাগে না। যারা লিখতে পছন্দ করে না তারাও ব্লগ থেকে টাক ইনকাম করতে পারবে। 

তাদের জন্য সহজ উপায় এফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করা। ব্লগে এফিলিয়েন্টট মার্কেটিং করে সহজে যেকেউ টাকা ইনকাম করতে পারে। 

ইকমার্সের যেকোন পণ্য বা সার্ভিস বিক্রি করে কমিশন আয় করাকে এফিলিয়েন্ট মার্কেটিং বলে। 

এফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করার জন্য প্রথমে ইকমার্স সাইটে এফিলিয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করার জন্য জনপ্রিয় কিছু ইকামর্স সাইট হল- 

amazon, ebay, flipkart, shopify ইত্যাদি 

ইকামর্স সাইটে এফিলিয়েন্ট অ্যাকাউন্ট করার পর তাদের পণ্য সেল করার জন্য আপনাকে এফিলিয়েন্ট লিংক দেওয়া হবে। এই লিংক প্রমোট করতে হবে। 

আপনার এফিলিয়েন্ট লিংক এ ক্লিক করে যত মানুষ পণ্য কিনবে আপনি তত কমিশন পাবেন।

ব্লগে এসব এফিলিয়েন্ট লিংক এবং পণ্য প্রচার করে সহজে ইনকাম করা যায়। 

ব্লগসাইটে এফিলিয়েন্ট মার্কেটিং করে ইনকাম করলে ২ভাবে ইনকাম করা যায়। এফিলিয়েন্ট পণ্য বিক্রি করে, গুগল এডসেন্স যোগ করে। 

৩। স্পন্সর করে বা পণ্য প্রচার করে ব্লগ থেকে ইনকাম

ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য আরও একটি সহজ মাধ্যম হল স্পন্সর করা বা যেকোন পণ্য প্রচার করা। 

আজকাল অনলাইনে ছোট বড় সব কোম্পানি বিজ্ঞাপন দেয়। কারন অনলাইন থেকে বেশি কাস্টমারর পাওয়া যায়। 

আপনার ব্লগ সাইটে ট্রাফিক বেশি হলে বিভিন্ন কোম্পানি আপনার ব্লগসাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইবে।  

আপনি তাদের বিজ্ঞাপন ব্লগে শো করলে কমিশন বা ফিস পাবেন। এটি গুগল এডসেন্স ছাড়া বাড়তি আয়। 

আবার আপনি নিজেও কিছু কোম্পানির সাথে কথা বলে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।

ব্লগ থেকে সহজে টাকা ইনকাম করা যায়। যদি ব্লগে ট্রাফিক বেশি থাকে। তাহলে বলেন আপনি কোন মাধ্যমে ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করবেন। কমেন্টে আমাদের জানাতে পারেন। 

শেষ কিছু কথা

অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা আজকাল অনেক জনপ্রিয়। বিভিন্ন উপায়ে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায়।

তার মধ্যে ব্লগ একটি। ব্লগ থেকেও সহজে টাকা ইনকাম করা যায়। আমরা এই আর্টিকেলে তা আলেচনা করেছি। 

তবে পরিশ্রম না করলে এবং স্কিল না থাকলে যত সহজ হোক টাকা ইনকাম করতে পারবেন না। ব্লগ থেকে টাকা ইনকাম করার আগে ব্লগ সম্পর্কে ভাল করে জানতে হবে এবং পরিশ্রম করতে হবে। 

আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে

ব্লগ কি

ব্লগের ইতিহাস

 প্রয়োজনীয়তা,

 তৈরী পদ্ধতি

ব্লগ এবং ওয়েবসাইটের পার্থক্য

ব্লগ থেকে ইনকাম করার উপায় সম্পর্কে জানতে পারলাম। 

আশা করি আমাদের এই আর্টিকেল পড়ে আপনি ব্লগ সম্পর্কে ভালভাবে জানতে পেরেছেন। 

ব্লগ নিয়ে আরও প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা উত্তর দেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করব। 

নিযমিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ, ফেসবুক Group ইউটিউব চ্যানেলের সাথে কানেক্টেড হয়ে থাকুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!