অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নতুন নিয়ম-২০২২

 অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম। আপনি  কি আপনার  সন্তানের জম্ম নিবন্ধন নিয়ে ভাবছেন? নিজের কর্মব্যস্ততার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় যাওয়ার সময় পাচ্ছেন না? আবার ভাবছেন জম্ম নিবন্ধন করতে অনেক সময় লাগবে। হয়রানির স্বীকার হতে পারেন। আপনি যদি এসব নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে এই আর্টিকেল আপনার জন্য। আমরা খুব সহজে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম আপনাদেরকে জানাব। 

বর্তমান সময় ডিজিটাল সময়। এই সময় আমরা সব কাজ ঘরে বসে ডিজিটালে করতে পারি। যাকে আমরা ডিজিটাল সেবা বলা হয়। 

অনলাইনে জম্ম নিবন্ধন করা ডিজিটাল সেবার মধ্যে অন্যতম। আপনি এখন ঘরে বসে আপনার সন্তানের জম্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। 

 ঘরে-বাহিরে যেকোন জায়গা থেকে ডিজিটাল সেবা নেওয়া যায়। শুধুমাত্র দরকার মোবাইল বা ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট ক্যানেকশন। 

প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহজে জম্ম নিবন্ধন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এমনকি জম্ম নিবন্ধনেরর কপিও তৈরী করে নিতে পারবেন। 

অনেক সময় নিজেরও জম্ম নিবন্ধন করা থাকে না। সেক্ষেত্রে আপনি নিজেই নিজের জম্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম

List of Contents

জম্ম নিবন্ধন সনদ

একটি শিশু জম্মের পর সকল তথ্য সরকারী খাতায় লেখাকে জম্ম নিবন্ধন সনদ বলে। জম্ম নিবন্ধন সনদকে একটি মানুষের ১ম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বলা হয়। 

২০০৪ সালে বাংলাদেশ সরকার ‘জম্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন’ আইন প্রণয়ন করে। এই আইন অনুসারে সব বয়সী এবং ধর্মীয় মানুষদের জম্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়। 

জম্ম নিবন্ধন সনদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোন কারনে ভুল তথ্য দিলে জম্ম নিবন্ধন বাতিল হয়ে যেতে পারে। এমনকি ছোটবড় নানা রকম সমস্যাও হতে পারে। 

তাই জম্ম নিবন্ধন সনদ সঠিকভাবে করতে হয়। 

জম্ম নিবন্ধন কেন করবেন

‘জম্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন’ আইন ২০০৬ সালে কার্যকর করা হয়। এই আইন অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের জম্ম নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে।

শিশু জম্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জম্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, কোন কারনে পিতমাতা শিশুর জম্মের ২ বছরের মধ্যে নিবন্ধন না করলে তাকে জরিমানা দিতে হবে। 

জম্ম নিবন্ধন সনদ একটি শিশুর রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র। জাতীয় পরিচয়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত জম্ম সনদই তার একমাত্র পরিচয়। স্কুলে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে সব জায়গায় জম্ম সনদ প্রয়োজন। 

জন্ম নিবন্ধন কেন করবেন বা এর প্রয়োজনীয়তা জেনে নেই-

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য: 

জন্ম নিবন্ধন সনদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য অবশ্যই লাগবে। এটি ছাড়া আপনি সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারবেন না। আর এখন ডিজিটাল জন্ম সনদ লাগবে। 

বোর্ড পরীক্ষা রেজিস্ট্রেশনের জন্য: 

পি ই সি, জে এস সি সহ বিভিন্ন বোর্ড পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের জন্য জম্ম সনদ দরকার। 

পাসপোর্ট তৈরীতে:

১৮ বছর আগে বা জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়া আগে অনেক সময় পাসপোর্ট দরকার পরে। সেক্ষেত্রে জম্ম সনদ ব্যবহার করতে হব।  

ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরীর জন্য:

১৮ বছর হওয়ার সাথে সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পাওয়া যায় না। অফিসিয়াল কাজের জন্য অনেক সময় দেরী হয়।

আবার অনেকে ১৮ বছর হলেই ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরী করে বা করতে চায়। তখন জম্ম সনদই একমাত্র ভরসা। 

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে:

আমাদের দেশে এখনও বাল্য বিবাহ হচ্ছে। বয়স লুকিয়ে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হয়। এই সময় জম্ম সনদ দেখালে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব। 

জাতীয় পরিচয়পত্র এর জন্য আবেদন:

১৮ বছর থেকে একজন মানুষ নিজ দেশের নাগরিক হয়। এই সময় প্রয়োজন হয় জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড। 

জাতীয় পরিচয়পত্র এর জন্য আবেদন করতে হলেও জম্ম সনদ দরকার। 

এছাড়া অনেকে বিভিন্ন কারিকুলাম একটিভিটিস এর সাথে জড়িত থাকে। যেমন ছবি আঁকা, নাচ, গান, গনিত সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে। 

এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করার জন্যও জম্ম সনদ দরকার হয়। 

মনে রাখবেন, জম্ম সনদ আপনার সন্তানের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পরিচয়। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার আগ পর্যন্ত জম্ম সনদ সব জায়গায় দরকার পড়বে।

জন্ম সনদ না থাকা মানে আপনার সন্তানের কেন পরিচয় নাই। তাই অবশ্যই জম্ম নিবন্ধন করতে হবে। 

 কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের দরকার হয় জন্ম নিবন্ধন করতে। চলুল জেনে নেই-

 যে সব কাগজপত্র প্রয়োজন জন্ম নিবন্ধন করতে: 

 কোন কোন ডকুমেন্টস প্রয়োজন হবে তা নির্ভর করবে শিশু জম্মের কতদিন পর নিবন্ধন করছেন তার উপর।

শিশু জম্মের ৫ বছরের মধ্যে নিবন্ধন করলে:

  • শিশু যে হাসপাতালে জন্ম হয়েছে তার সার্টিফিকেট বা ছাড়পত্র লাগবে। 
  • হাতপাতালে জন্মগ্রহণ না করলে কোন এনজিও কর্মীর প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। যাকে তথ্য সংগ্রকারী হিসাবে ধরা হবে। 
  • উপরের কোনটা না থাকলে বা দিতে না পারলে নিবন্ধকের জম্ম সনদ দিতে হবে। অবশ্যই সত্যায়িত করা থাকতে হবে। 
  • পিতামাতা জম্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। 

শিশু জন্মের ৫ বছর বা তারপরে নিবন্ধন করলে:

  • এমবিবিএস ডাক্তারের প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। যা বয়স প্রমাণের জন্য প্রয়োজন হবে। 
  • স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যায়ন পত্র লাগবে। জম্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা প্রমানের জন্য এটি দরকার। 
  • উপরে বর্ণীত কাগজ না থাকলে বিকল্প লাগজ সংগ্রহ করতে হবে। যে কাগজ দ্বারা বয়স ও জম্মস্থান প্রমান করা হবে। নিচে বিকল্প কাগজের তালিকা দেওয়া হল-  
  • বিকল্প কাগজ ১: শিক্ষ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক বা তাদের দ্বারা মনোনীত শিক্ষক বা কর্মকর্তার প্রত্যয়ন। 
  • বিকল্প কাগজ ২: পাসপোর্ট বা ইপিআই বা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা যেকোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জম্ম সংক্রান্ত ছাড়পত্র বা উক্ত জম্ম সংক্রান্ত সনদের সত্যায়িত পত্র।
  • বিকল্প কাজ ৩: নিবন্ধনকারীর জম্ম তারিখ বা তার ঠিকানা প্রমানের জন্য জম্ম সনদ।
  • বিকল্প কাগজ ৪: কোন এনজিও কর্মীর প্রত্যায়ন। যাকে নিবন্ধনকারী তথ্য সংগ্রহকারী হিসাবে ঠিক করবে। 
  • পিতামাতার জম্ম সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। 

আগে পৌরসভায় গিয়ে জম্ম নিবন্ধ করতে হতো। এখন আপনার ঘরে এসেছে ডিজিটাল সেবা নিতে পারবেন। যার ফলে যেকোন জায়গায় থেকে অনলাইনে জম্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম 

ডিজিটাল বাংলাদেশে সব কাজ এখন অনলাইনে করা হচ্ছে। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে এবং নির্ভেজাল ভাবে কাজ করার জন্য অনলাইনের কাজ দিন দিন জনপ্রিয় পাচ্ছে।

২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে অনলাইনে জম্ম নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে সহজে জম্ম সনদ পাওয়া যায়।  

এছাড়া নিজের তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া যায়। অনলাইনো জম্ম নিবন্ধন করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হল-

১ম ধাপ: অনলাইনে জম্ম নিবন্ধন করতে প্রথমে সরকারী ওয়েব সাইটে যেতে হবে। জম্ম নিবন্ধনের ওয়েবসাইটটি হল https://bdris.gov.bd/br/application 

এই লিংক ব্রাউজারে লিখে সার্চ করতে হবে। অথবা এখানে ক্লিক করলেও হবে https://bdris.gov.bd/br/application  

২য় ধাপ: ওয়েবসাইটে যাওয়ার পর একটি ইন্টাফেস দেখতে পারবেন। যেখানে ‘নতুন জম্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন’ লেখাটি দেখবেন। 

এর নিচে ৩টি অপশন আছে। জন্মস্থান, স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকা

আরো পড়ুন:-

এরমধ্যে যেকোন একটি সিলেক্ট করবেন। যে ঠিকানা থেকে জম্ম সনদ সংগ্রহ করবেন সেই ঠিকানা সিলেক্ট করবেন। 

শিশুর জম্ম দেশের বাহিরে হলে বাংলাদেশে দূতাবাস নির্বাচন করতে হবে। এই অপশন নিচে দেওয়া আছে। বক্সে ক্লিক করলেই হবে। 

মনে রাখবেন, যে ঠিকানা দিবেন সে ঠিকানা থেকে জম্ম সনদ সংগ্রহ করতে হবে। 

এরপর ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। 

৩য় ধাপ: এখানে নতুন জম্ম নিবন্ধনের জন্য একটি আবেদন ফর্ম পাবেন।এই ফর্ম নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির জন্য। এখানে তার নাম, ঠিকানাসহ নিজের পরিচয়ের কিছু তথ্য দিতে হবে। 

এই ফর্ম পূরন করা হলে ‘পরবর্তি’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। 

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম 

৪র্থ ধাপ: নতুন একটি ইন্টারফেস দেখতে পারবেন। যা আরও একটি নতুন ফর্ম। এই ফর্মে যা পূরন করতে হবে-

  • ১ম ঘরে নিবন্ধনকারীর পিতার জম্ম সনদের নাম্বার দিতে হবে। 
  • ২য় ঘরে পিতার নাম বাংলায় এবং ইংরেজীতে লিখতে হবে। 
  • ৩য় ঘরে পিতার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বার এবং
  • ৪র্থ ঘরে পিতার জাতীয়তা দিতে হবে। 

এরপর মাতার তথ্য পূরন করতে হবে। পিতার জন্য যে তথ্যগুলো দেওয়া হয়েছে একই তথ্য মাতার জন্যও দিতে হবে। নিয়ম একই।  

ফর্মে লাল রঙের স্টার চিহ্ন দেখবেন। যে অপশনগুলোতে লাল স্টার দেখবেন। সে অপশনগুলো অবশ্যই পূরন করতে হবে। এটা সব ফর্মের জন্য প্রযোজ্য। 

পিতা-মাতার তথ্য পূরন করা হলে ডানদিকে থাকা ‘পরবর্তী’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। 

৫ম ধাপ- এখানে ঠিকানা দেওয়ার জন্য ২টি অপশন পাবেন। 

১। আপনি কি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানা আপনার স্থায়ী ঠিকানা হিসাবে ব্যবহার করতে চান

২। আপনি কি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানা আপনার বর্তমান ঠিকানা হিসাবে ব্যবহার করতে চান

এই ২ অপশনের পাশে ‘কোনটি নয়’ অপশন পাবেন। 

আপনাকে যেকোন একটি অপশনের কোনটি নয় অপশন সিলেক্ট করবেন। ফলে ঠিকানা লেখার জন্য একটি নতুন ফর্ম আপনি পাবেন।  

আপনার জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা একই হলে বা একই দিতে চাইলে ১ম অপশনটি সিলেক্ট করুন। ১ম অপশনে আছে ‘জম্মসাস্থানের ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা একই’।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম 

এই অপশন ক্লিক করলে ঠিকানার তথ্যগুলো অটোমেটিকভবে পূরন হয়ে যাবে। 

আর যদি জম্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা এক না হয়। তাহলে আলাদাভাবে লিখতে হবে। প্রথমে জম্মসাস্থানের ঠিকানা লিখতে হবে। এরপর বর্তমান ঠিকানা। 

ঠিকানার তথ্যগুলো দেওয়া হলে ‘পরবর্তী’ অপশন ক্লিক করতে হবে। 

৬ষ্ঠ ধাপঃ নতুন পৃষ্ঠায় আবেদনকারীর তথ্য দিতে হবে। এই পৃষ্ঠায় আবেদনকারীর সাথে নিবন্ধনকারীর সম্পর্ক, আবেদনকারীর নাম, মোবাইল নাম্বার, ইমেইল দিতে হবে। 

৭ম ধাপ: সব তথ্য দেওয়া হলে আপনাকে সম্পূর্ণ ফর্ম দেখাবে। তথ্যগুলো নির্ভুল হলে সাবমিট অপশনে ক্লিক করতে হবে। 

আর কোন তথ্য ভুল হলে বা সংশোধন করতে হলে ‘কোন কিছু ভুল করলো সংশোধন করে নিন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। 

এরপর যে তথ্য ঠিক করতে চান ঠিক করতে পারবেন। তথ্যগুলো অবশ্যই নির্ভুল হতে হবে। 

তথ্য সংশোধন করে ‘সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তাহলেই আপনার জম্ম নিবন্ধনেরর আবেদন জমা হয়ে যাবে। 

৮ম ধাপ: জম্ম নিবন্ধন আবেদন জমা দেওয়ার পর আপনাকে একটি নাম্বার দেওয়া হবে। এই নাম্বারটি সংগ্রহ করে রাখবেন। এই নাম্বার দিয়ে জম্ম নিবন্ধনের অবস্থান জনতে পারবেন। 

আবেদনপত্রটি অবশ্যই প্রিন্ট করে নিবেন। এরজন্য একই পৃষ্ঠায় ‘আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন’ অপশন পাবেন। এই অপশনে ক্লিক করে আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করতে পারবেন। 

যদি আপনার প্রিন্টার না থাকলে তাহলে দোকান থেকে প্রিন্ট করতে পারবেন। 

৯ম এবং শেষ ধাপ: সাধারনত ১৫ দিনের মধ্যে জন্ম সনদ পাওয়া যায়। জম্ম অবস্থান আপনি নিজেই দেখে নিতে পারবেন। সেখান থেকে জানতে পারবেন কবে জম্ম সনদ পাবেন।  

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদনপত্রের প্রিন্ট এর কপি নিয়ে স্থানীয় কার্যালয়ে যেতে হবে। জন্ম সনদ সংগ্রন করার জন্য যে ঠিকানা দিয়েছেন। 

প্রয়োজনীয় সব কাগজ জমা দিলেই আপনি পেয়ে যাবেন জম্ম সনদ। 

জম্ম নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থান কিভাবে দেখবেন

জম্ম নিবন্ধন আবেদন সঠিকভাবে পূরন করে জাম দিয়েছেন। কিন্তু আপনি জানেন না বর্তমানে আবেদনপত্রটির কি অবস্থা। 

পৌরসভা আপনার আবেদনপত্রটি গ্রহন করেছে কিনা বা কেন সমস্য হয়েছে কিনা জানেন না। 

আপনি সহজে অনলাইনের মাধ্যমেই সব তথ্য জানতে পারবেন। আপনার আবেদনপত্রটি গ্রহন করা হয়েছে কিনা বর্তমানে কি অবস্থায় আছে সবকিছু জানতে পারবেন ঘরে বসে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম 

জম্ম নিবন্ধনের বর্তমান অবস্থান দেখার জন্য জম্ম নিবন্ধনের ওয়েবসাইটে যেতে হবে। যে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করেছেন। 

ওয়েবসাইটে আসার পর ‘জম্ম নিবন্ধন’ অপশনে যাবেন। আপনাকে অনেকগুলো অপশন দেখাবে। 

এরমধ্যে সবার প্রথমে ‘জন্ম নিবন্ধন আবেদনের বর্তমান অবস্থান’ অপশনটি পাবেন। এই অপশনে ক্লিক করবেন। 

আপনি নতুন একটি ইন্টারফেস পাবেন। এখানে ৩টি অপশন পাবেন। 

  • ১ম অপশন ‘অবেদনপত্রের ধরন’। এখানে ‘জম্ম নিবন্ধন আবেদন’ সিলেক্ট করবেন। 
  • ২য় অপশন ‘অ্যাপ্লিকেশন আইডি নম্বার’। আবেদনপত্র সাবমিট করার পর যে নাম্বার পেয়েছেন সেই নাম্বার দিতে হবে। 
  • ৩য় অপশন ‘জন্ম তারিখ’। এখানে নিবন্ধনকারী জম্ম তারিখ দিতে হবে। 

এরপর নিচে ‘দেখুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর জানতে পারবেন আপনার জম্ম নিবন্ধন আবেদনপত্রটির বর্তামান অবস্থান।  

কেমন খরচ হবে

বাংলাদেশে ২০১০ সালের জুন মাস পর্যন্ত জম্ম সনদ বিনামূল্যে করা যেত। কিন্তু বর্তামানে নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত বিনামূল্যে করা যায়। এরপর বয়স অনুযায়ী ফি দিতে হবে। একে সঠিক সময়ে জম্ম নিবন্ধন না করা জরিমানা বলা চলে। 

নিচে জম্ম নিবন্ধনের জন্য কত খরচ হবে তার তালিকা দেওয়া হল-
  • শিশু জম্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে জম্ম সনদ করা যাবে। 
  • ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা
  • ৫ বছর পর থেকে সব বয়সীদের জন্য ৫০ টাকা
বিদেশে শিশু জন্মগ্রহণ করে-
  • শিশু জম্মের ৪৫ দিন পর্যন্ত বিনামূল্যে জম্ম সনদ করা যাবে। 
  • ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ১ মার্কিন ডলার 
  • ৫ বছর পর থেকে সব বয়সীদের জন্য ১মার্কিন ডলার

এই হল অনলাইনে জম্ম নিবন্ধন করার নিয়ম। এখন আপনি সহজে ঘরে বসে আপনার এবং আপনার সন্তানের জম্ম নিবন্ধন করতে পারবেন। 

আলাদা করে সময় দিতে হবে না, পৌরসভায় দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। ঘরে বসে জম্ম সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবার তার বর্তমান অবস্থানও দেখতে পারবেন। 

সতর্কতা:

  • সব তথ্য নির্ভুল দিতে হবে। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তিতে সমস্যা হতে পারে। এমনকি জম্ম সনদ বাতিলও হতে পারে।
  • শিশু জম্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই জম্ম সনদ করে নিবেন। 
  • সন্তানের জম্ম সনদ করতে অবহেলা করবেন না। কারন এটি আপনার সন্তানের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পরিচয়। 
  • অনেক সময় পিতামাতারও জম্ম সনদ করা থাকে না। সেক্ষেত্র, আগে পিতামাতার জম্ম সনদ করে নিতে হবে। এরপর সন্তানের জম্ম সনদ করতে হবে।  

 আশাকরি গুরত্বপূর্ন একটি তথ্য দিয়ে আপনাদের সহযোগিতা করতে পেরেছি।পোষ্টগুলো শেয়ার করে টাইম লাইনে রেখে দেন।

3 thoughts on “অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার নতুন নিয়ম-২০২২”

  1. Md. Abdul Awal Mia

    জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম টা দিলে ভাল হত। ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. Pingback: Make Money By Visiting Freelancing Job Website - Needlyric

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!